অদ্ভুতুড়ে

5.00 গড় রেটিং - 1 ভোট
বাড়তি নাম: Adbhuturea
সিরিজ: অদ্ভুতুড়ে সিরিজ
প্রকাশক: দে’জ পাবলিশিং
বিষয়: শিশু-কিশোর, রহস্য, ভৌতিক ও অতিপ্রাকৃত
লেখক:
পৃষ্ঠাসমূহ: 242
আইএসবিএন: 9788129519054
ভাষা: বাংলা
ধরণ: পিডিএফ
ভুবন রায়ের বয়স পঁচাশি বটে, কিন্তু তাকে বুড়োমানুষ বললে অপমানই করা হবে। যৌবনকালে অলিম্পিকে দেশের হয়ে ওয়েটলিফটিং করেছেন। মেডেল একটা পেলেও পেয়ে যেতে পারতেন। প্রতিযোগিতার দিন সকালে নাস্তায় মাংস আর ডিম খেয়ে অ্যায়সা বাড়িয়ে ফেলনেন যে তাকে লাইট-হেভি ওয়েটে নামতেই দেয়া হলো না। তবে ভুবন রায় দমবার পাত্র নন। কোমর বেঁধে হেভিওয়েট গ্রুপের দৈত্য-দানবের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে যান। আর আশ্চর্যের বিষয় ষষ্ঠ স্থান দখল করে নিয়েছিলেন। মিলিটারিতে বেশ উঁচু পদে অফিসার ছিলেন। সেই চাকুরী ছেড়ে প্রথমে তিনি কিছু গরু কিনে ফেললেন। তারপর দুধ, ঘি মাখান তৈরি করে নিজেই ফেরি করে বেড়াতেন। কিন্তু গাঁয়ের লোক অত টাকা কই যে নিত্য ঘি মাখন খায়! পরে দিলেন জুতার দোকান তাতেও সুবিধে করতে না পেরে অবশেষে চাষআবাদ শুরু করলে তার কপাল খুলে যায়। ভুবন রায়কে ভয় পায় না এমন লোক এ তল্লাটে নেই। তিনি তার ছেলেদেরকে এখনো লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে বকাঝকা করেন। ইদানীং ভুবন রায়ের মাথায় বিজ্ঞানের ভুত চেপেছে। তার বড় ছেলে রামলাল সোনার মেডেল পাওয়া, কলেজের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক। তাকে ডেকে বিজ্ঞান চর্চার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জ্ঞান ঝাড়লেন। যার মোটকথা হলো, রামলালের উপর একটা সায়েন্স ল্যাবরেটরি তৈরি করার দায়িত্ব পড়েছে। কলকাতা থেকে সকল যন্ত্রপাতি আনার ব্যস্থা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে তার আরেক ছেলে নন্দলাল সে সংসারের মোহ-মায়া ত্যাগ করে সন্ন্যাসী হবার যোগার প্রায়। বিয়ে থা করেননি, সাধুগোছের লোক। কায়কল্প প্র‍্যাকটিস করেন। তার এক ভৌত ক্লাব আছে। প্রতি শনি মঙ্গলবার সেখানে কয়েকজন মিলে ভূত-প্রেত নিয়ে গবেষণামূলক কাজকর্ম করেন। তাদের বয়স ত্রিশ থেকে আশি অবধি। আছেন ভূত দেখতে আদা জল খেয়ে লাগা ফটিকবাবু, ভূত বিশেষজ্ঞ রাধাগোবিন্দবাবু, শ্যামবাবু, সাত্যকিবাবু তাদের দেখভাল করার জন্য গিরজাসহ আরও দু চার জন। ঐ দিকে বিজ্ঞান ল্যাবরেটরি রেডি হয়ে গেছে। তাতে ভুবন রায় সারা দিনের বেশির ভাগ সময় আবিষ্কারের কাজে লেগে থাকেন। আর রামলালকেও খাটিয়ে মারেন। একদিন রামলাল ল্যাবরেটরিতে কাজ করতে গিয়ে ভয়ে দৌড়ে এসে পা মচকান। ঠাকুমার ঘরে দাওয়া লাগতে গিয়ে জানতে পারেন, তার বাবা দুলালসেন মাস্টারমশাইকে তুলে এনে ল্যাবরেটরিতে জায়গা দিয়েছেন, যাকে কিছুক্ষণ আগে রামলাল ভূত ভেবেই ভয় পেয়ে পাখানাই মচকে বসে আছেন। ভুবন রায় কখন যে কি করেন তা তার পরিবারের কারুকেই জানান না। জানানোর প্রয়োজন মনেও করেন না। আর কেউ যে তাকে কিছু জিজ্ঞেস করবে সে সাহসও কারো নেই। একমাত্র ভুবন রায় তার মা হরমোহনীর সামনে ল্যাদা বাচ্চা। সবাই যেমন ভুবন রায়ের ভয়ে তটস্থ থাকে, তেমনি ভুবন রায় তার মায়ের ভয়ে তটস্থ থাকেন। কারণ মা তাকে এখনো বালক ভেবেই সবার সামনে বকাঝকা করেন,এতে মাঝেমধ্যে তাকে ভীষণ লজ্জায় পড়তে হয় বৈকি! বাড়ির ছেলেপেলেদের ল্যাবরেটরিরর ওদিকটায় যাওয়া বারণ। কিন্তু একদিন বাড়িতে কেউ ছিল না, সেই সুযোগে লালু, ভুতো, টিকলি, বাললি, মন্টু বাড়ির সকল ছেলেপেলে মিলে ল্যাবরেটরি দেখতে ঢুকে দেখে দুলালসেন মাস্টারমশাই বেলুনে গ্যাস ভরছে! দেখে বাচ্চারা দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে যায়। সবাই নানা রঙের বেলুন নিয়ে যখন ব্যস্ত। গদাই আর নিমাই বিজ্ঞানের ভালো ছাত্র তারা নানারকম এক্সপেরিমেন্ট করতে লেগে গেল। মন্টু তার টেস্টটিউবে রাজ্যের সব কেমিক্যাল ঢেলে বুনসেন বার্নারে চাপিয়ে চেঁচাতে লাগল। হঠাৎ দুম করে সেটা ফেটে চারিদিক একটা নীল আলো চমকে উঠল। ভয়ে সবাই পড়িমরি করে ছুটে পালালো। শুধু ভূতো, মন্টু আর গদাই দাঁড়িয়ে কান্ড দেখতে লাগল। দুলালসেন মাস্টারমশাই জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গছেন। ভয় পেয়ে তারাও পালাল। পরদিন থেকে দুলালসেন মাস্টারমশাইকে আর পাওয়া যাচ্ছল না! তবে রায় বাড়িতে পাওয়া গেল দুই চোর । পাঁচু মোদক ও তার শারগেত। কিন্ত তারাও সবার চোখের সামনে থেকেই পালিয়ে গেল। আর রাতারাতি এ তল্লাটে চুরি ডাকাতি বেড়েই চলল। সুলালসেন নামের নতুন এক ক্রিকেটারের আবির্ভাব হলো। শুরু হলো এক ভজঘট। তা যেনো আর শেষই হতে চায় না। ওইদিকে ভূত ক্লাবের মেম্বাদের উপর পোড়াবাড়ির জঙ্গলের ভূত গুলো সবাই ক্ষেপা, তাদের কাঁচা ঘুম ভাঙানোর জন্য। আর পাঁচু মোদক আর তার নতুন শারগেত ভূত বেচাকেনা করার নতুন কৌশল খুঁজছে। বাকি ভজঘট আর বিটকেলে রহস্যের খিটকেলে সমাধান জানতে পড়তে হবে অদ্ভুতুড়ে বইটি।

রিভিউস

আবশ্যিক তথ্যগুলো * দিয়ে চিহ্নিত করা। আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।