গোগোল অমনিবাস

4.00 গড় রেটিং - 1 ভোট
বাড়তি নাম: Gogol Amnibus
বিষয়: রহস্য, শিশু-কিশোর, গোয়েন্দা, সমগ্র
লেখক:
পৃষ্ঠাসমূহ: 517
ভাষা: বাংলা
ধরণ: পিডিএফ
ছোট্ট বন্ধুরা,
তোমাদের মধ্যে অনেকেই গত কয়েক বছর ধরে গোগোলের নানা ধরনের কাণ্ড-কারখানার খবর শুনেছ গোগোলের স্রষ্টা সমরেশ বসুর বিভিন্ন লেখায়। তোমরা জেনেছ গোগোলের অনেক শ্বাসরোধকারী এ্যাডভেঞ্চারের কথা যার ফলে এই খুদে গোয়েন্দাটি তোমাদের একান্ত আপন হয়ে উঠেছে, তোমরা নিজেদের অজান্তে কখন যে ওকে দারুণ ভালোবেসে ফেলেছ, তা নিজেরাই জানো না। ওর একটা কাহিনী পড়ার পর মাসের পর মাস রুদ্ধ-নিঃশ্বাসে অপেক্ষা করেছ পরবর্তী কাহিনী জানার আশায়। এমনিভাবেই গোগোল এবং তোমরা শৈশব থেকে কৈশোরে পা দিয়েছে, তোমাদের স্বপ্নরঙিন দিনগুলোতে গোগোল তোমাদের সাথী। গোগোলের স্রষ্টা সমরেশ বসু ওর নাম গোগোল রাখলেন কেন? অন্য নামও তো রাখতে পারতেন। সমরেশ বসু গোগোল নামটি পেয়েছিলেন ঔরই অভিন্নসত্তা কালকূটের কাছে, যখন কালকূট কুম্ভমেলায় গিয়ে প্রথমে এলাহাবাদে যাঁর বাড়িতে অতিথি হয়েছিলেন সেই ডঃ অরুণকুমার মিত্রের ছেলের নাম গোগোল বলে জানতে পারেন। কিন্তু গোগোলের বাবা সমীরেশ চ্যাটার্জী তা জানতেন না। তিনি রাশিয়ার বিখ্যাত গোগোল-এর ভক্ত। অতএব ছেলের নাম রাখলেন গোগোল।
কিন্তু গোগোল যার নাম, তার নামে যে 'গোল' কথাটা আছে। যার নামের পিছনে গোল আছে, তার কাজে তো গোলমাল থাকবেই। সে জানে না, এমন বিষয় নেই। তার হাব-ভাব, হাঁটা-চলা, কথা বলার কায়দা সব কিছুর মধ্যেই একটু অভিনবত্ব আছে। তাই তো সে তোমাদের এত প্রিয়, তোমাদের নায়ক।
তোমরা তো ওর অনেক ঘটনা জানো, এই অমনিবাসটা পড়লে ওর আরো অনেক নতুন কথা জানতে পারবে। কিন্তু সব জানার পরেও একটা ব্যাপারে কিন্তু তোমাদের একমত হতেই হবে—গোগোল মোটেই দস্যি ছেলে নয়। আমাদের আশেপাশে সবসময় যা ঘটছে সেইসব ব্যাপারে ওর অসীম কৌতুহল, কিন্তু স্বভাবের দিক থেকে বিন্দুমাত্র দুষ্টুমি ওর ধাতে পোষায় না। তবে দেখবে ও বাড়ীতে ভীষণ নিঃসঙ্গ ! মা সুনীতি রান্নাবান্না আর সংসার সামলানোয় ব্যস্ত। বাড়িতে কাজের লোক আছে। কিন্তু হারাধন বা বঙ্কিমদা গোগোলকে মোটেই সময় দেয় না। তোমরা দেখবে স্কুলে যাওয়া ছাড়া বাড়িতে সময় কাটানো ওর কী রকম সমস্যা! হয়তো মা কখনও একটু গল্প পড়ে শোনালেন কিংবা ও কখনও নিজের খাতায় একটা গল্প লিখল। কিন্তু তোমরা বলল তো, এভাবে তোমাদের মতো বয়েসের একটা ছেলের সময় কাটে ? ওকে বেড়াতে নিয়ে যাবারও কেউ নেই। বাবা তো সারাক্ষণ নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে বাড়ির বাইরেই কাটান । তাই, ও কাউকে পেলে আর ছাড়তে চায় না, তাকে গল্প শোনায়, নিজের নানা রকমের কেরামতির পরিচয় দেয়।
ও কিন্তু তোমাদের মতো দুষ্ট না, দুরন্তপনা ওর ধাতে নেই। তোমরা কি গোগোলর মতো মায়ের বাধ্য ছেলে ? ও সবকিছু জানতে চায়, বুঝতে চায়। ও প্লাস্টার দিয়ে নানারকম মূর্তি তৈরি করে। বাড়ির যাবতীয় ফেলে দেওয়া ইলেকট্রিকের তার, খারাপ সুইচ ইত্যাদি দিয়ে অনেক কিছু তৈরি করে। জিজ্ঞেস করলে বলে, মাইক তৈরি করা হচ্ছে। আলো অলছে না, সুইচ ঠিক করা হচ্ছে। সে মাকে বাঘ সেজে ভয় দেখায়, বাবার ডাক্তার হয়ে যায়, ফ্রিজ সারানোর ইঞ্জিনিয়ার হয়। চাকরের কাছে গল্প বলে ও নিজেও শোনে। বন্ধুদের নানা বিষয়ে জ্ঞান দেয়। কখনও নিজের মনেই বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দীতে কথা বলে।
তবে তোমরা তো গোগোলকে বেশ কয়েক বছর ধরেই দেখছ। এ বয়সটা তো আর এক জায়গায় দাড়িয়ে নেই। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ওর জ্ঞান আর অভিজ্ঞতা একটু বাড়ছে বই কি। সুমিত, টুকাই, গোগে, পারভেজ ও জর্জের মতো বন্ধুরাও ওর জীবনে এসেছে। ও ক্যারাটের ভক্ত। আর বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ওর কৌতূহলটা বেড়ে যাওয়ার দরুন ও মাঝে-মাঝে বিপদের মুখে ঝুঁকি নেয় ।
হঠাৎ কোনো লোকের মুখ দেখেই ওর মনে হয়, লোকটা মোটেই ভালো নয়। আবার চোখের সামনে কোনো ঘটনা ঘটতে দেখলেই সেটা ভালো কি মন্দ ও যেন মনে-মনে বুঝতে পারে। ঘটনাটা যদি খারাপ হয় তাহলেই গোগোলের কৌতূহল এমন বেড়ে যায় যে সেই ঘটনার শেষ না দেখা পর্যন্ত ও শান্তি পায় না। কিন্তু তোমরা কি কোনো ঘটনা দেখলেই প্রাণপণ করে ঝাঁপিয়ে পড়ো? বাবা-মায়ের আপত্তি থাকলে তোমরা কি কোথাও এগিয়ে যাও? কিন্তু গোগোলের মতো বাধ্য ছেলে কি করে ভয়ঙ্কর সব ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে ? ওর ভাগ্যটাই এমন, ওর কোনো ইচ্ছে-অনিচ্ছের প্রশ্ন নেই, আপনা থেকেই ও বিপদের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। আসলে, তোমাদের মতো গোগোল সব কিছুকে সাধারণ চোখে দেখতে পারে না। তোমাদের জহুরী-চোখে নিশ্চয়ই ধরা পড়বে, বড় হবার পর বাবাকে নকল করে পাকামি করার চেয়ে ওর অন্য অনেক বিষয়ে কতটা কৌতূহল বেড়েছে মানুষের চাদে পাড়ি দেওয়ার ঘটনা, মঙ্গলগ্রহেব রঙ এবং সেখানে পাহাড় নদ-নদী, গাছপালা এবং কোনো জীবন্ত প্রাণী আছে কিনা--সেসব ও জানতে চায়। গোগোলের সঙ্গে তোমাদের অনেকেরই অনেক বিষয়ে অমিল রয়েছে। ওর জীবনে দারিদ্র্য নেই, বাবা সচ্ছল ও পদমর্যাদাসম্পন্ন। তাই, ও ইচ্ছেমতো গল্পের বই কিনতে পাবে, ছবি আঁকার সরঞ্জাম যোগাড় করতে পারে। কিন্তু দেখবে ও স্বভাবের দিক থেকে কত ভালো। মাত্র একবারই ও পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারেনি। ও মায়ের কড়া শাসন মুখ বুজে সহ্য করে, সচরাচর মায়ের বিনা অনুমতিতে কোথাও পা বাড়ায় না। কিন্তু ওকে নিযে ওর বাবা-মায়ের মনে যে শান্তি নেই তাতে ও কি করতে পারে বলে ? তোমরা তো কত গোয়েন্দা-গল্প পড়ো কিন্তু বলো তো ওর চালচলন কি গোয়েন্দা-গল্পের নায়কদের মধ্যে সরাসরি বা প্রত্যক্ষ ? ও ইচ্ছে করে আসামীদের ধরতে বা মোকাবিলা করতে চায় না। সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে আরামে একটি নিটোল সচ্ছল মধ্যবিত্ত সুখী পরিবারে বাবা-মায়ের স্নেহের উত্তাপে ওর জীবনটা মসৃণ পথেই চলার কথা।
কিন্তু ও বাড়িতেই থাকুক আর বাবা-মায়ের সঙ্গে বেড়াতেই যাক, ওর কৌতুহল আর সব কিছু জানার আগ্রহ ওকে বিভ্রাটে ফেলে দেয়, ওর বাবামায়ের ঘুম কেড়ে নেয়। ও কি করবে বলে। !
সব কিছু জানার অদম্য কৌতূহল মাঝে-মাঝে ওকে প্রায় মৃত্যুর দরজায় নিয়ে গেছে। 'দুর্গের গড়খাইয়ের দুর্ঘটনা'র আততায়ী ওকে প্রায় হত্যা করে ফেলে, রায়রাজাকে উদ্ধার করতে গিয়ে ও গুণ্ডাদের তাড়া খেয়ে পালালেও ওকে শাস্তি দেওয়ার জন্য রাত্রে বাড়িতে ডাকাত পড়ে, কাইরং মঠের ঘটনায় ওকে শারীরিক নিগ্রহ সহ্য করতে হয়, সারেণ্ডার জঙ্গলে রাক্ষসের বদলে পাইথন আবিষ্কার করার ঝুঁকি নেওয়ার দুঃসাহসের জন্য মায়ের কাছে থাপ্পড় খেতে হয়, রাণাঘাটে গিয়ে শয়তানদের কাছে তাড়া খেয়ে তীব্রবেগে ধাবমান ট্রেনের চাকার তলায় পিষ্ট হতে হতে বেঁচে যায়। তোমরা দেখবে মহিষাসুরমদিনী-মূর্তির অপহরণকারীরা কীভাবে ওকে ধরে নিয়ে একটা কাচা মাটির ঘরে শুইয়ে রেখে হুমকি দেয় যে ঘোর দুপুরে এসে ওকে দীঘির জলে ডুবিয়ে শেষ করে দেবে। এমন কি, ‘সোনালীপাড়ের রহস্য' আবিষ্কার করতে গিয়ে পুরীতে ও গুলিবিদ্ধ হয়ে মরতে পারত, ব্যাঙ্কডাকাতেরা একবার ওকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞানও করে ফেলে। সেখান থেকে ও এসে পড়ে এমন একটা লোকের হাতে যে ওকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে ফেলার জন্য একটা ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। এমন কি, ওকে বাড়ি থেকেও দু’বার শয়তানেরা ধরে নিয়ে যায় । কিন্তু দেখছ তো তোমরা, গোগালের কী অসাধারণ ক্ষমতা! ওর শরীর থেকে কখনও রক্ত ঝরেনি। সে বরাবরই মায়ের কোলে ফিরে আসে। আর একটা মজা নিশ্চয়ই তোমাদের নজর এড়াবে না। বন্দী অবস্থায় ওর খাওয়া-শোয়ার কোনো অসুবিধে হয় না। টেলিফোনে আড়ি পাতার শাস্তি দিতে যে-দস্যুরা ওকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে এবং হত্যার হুমকি দেয়, সেই নৃশংস লোকগুলো ওর শোবার ব্যবস্থা করে ফোমের গদির ওপর বিছানায়, খেতে দেয় পরোটা, মুগীর মাংস আর মিষ্টি।' ওদের সহৃদয়তায় গোগোল সকালে প্রাতরাশ হিসেবে খেতে পায় মাখন-মাখানো টোস্ট, ওমলেট আর সন্দেশ । অনুরোধ আসে চা অথবা কফি পান করার, দুপুরের খাদ্য হিসেবে পায় ভাত, মুগীর ঝোল ও মিষ্টি আর বিকেলে ‘হ্যাপি ক্রিসমাস’-লেখা বড়দিনের কেক। সত্যিই তো, যেখানে মা নেই, হারাধন বা বঙ্কিমদা নেই, সেখানে যে-কোনো উপায়ে এইসব মুখরোচক খাবার-দাবারের ব্যবস্থা না থাকলে খালি পেটে কি ওইসব ঝুটঝামেলা পোষায় ?
আর একটা ব্যাপাব তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছ। বিভিন্ন এ্যাডভেঞ্চারে গোগোল এমন কিছু সঙ্গী পেয়ে যায় যারা পরোক্ষভাবে ওকে রহস্য উদ্ধারে সাহায্য করে। তবে লিম্বু, মেদা, ইলা, তিনুদা, আলেগে, বিজিত, ডাবুদা এবং নৈহাটির বিখ্যাত গোয়েন্দা অশোক ঠাকুর ওকে যতই সাহায্য করুক না কেন, মূল কৃতিত্বটা কিন্তু ওরই। বাংলা সাহিত্যের আসরে এই খুদে গোয়ন্দা নিশ্চয়ই অমরত্বের দাবি করতে পারে। কি তাই না? কি বলল তোমরা? অমনিবাসটা পড়ে জানিও।

- নিতাই বসু

এই অমনিবাসে গল্পের তালিকা

  • ইদুরের খুটখুট
  • রত্নরহস্য ও গোগোল
  • গোগোলের কেরামতি
  • চোরা হাতী শিকারী
  • মহিষমর্দিনী উদ্ধার
  • গোগোলের রায়রাজা উদ্ধার
  • জোনাকি ভূতের বাড়ি
  • বুনো হাতির বন্ধুত্ব
  • সোনালী পাড়ের রহস্য
  • গরাদহীন জানালায় রাক্ষস
  • অদৃশ্য মানুষের হাতছানি
  • আয়না নিয়ে খেলতে খেলতে
  • কাইরং মঠে গোগোলের কাণ্ড
  • দুর্গের গড়খাইয়ের দুর্ঘটনা
  • পশ্চিমের ব্যালকনি থেকে
  • টেলিফোনে আড়িপাতার বিপদ
  • গোগোল কোথায়?
  • হারানো বুদ্ধগুপ্তি

রিভিউস

আবশ্যিক তথ্যগুলো * দিয়ে চিহ্নিত করা। আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।