উঁহু

4.00 গড় রেটিং - 1 ভোট
বাড়তি নাম: Uhu
সিরিজ: অদ্ভুতুড়ে সিরিজ
প্রকাশক: আনন্দ পাবলিশার্স
বিষয়: শিশু-কিশোর, রম্য সাহিত্য
লেখক:
পৃষ্ঠাসমূহ: 87
আইএসবিএন: 9788177567922
ভাষা: বাংলা
ধরণ: পিডিএফ
সুখেই দিন কাটছিল পায়েসপুর গ্রামবাসীর। রিটায়ার্ড দারোগা রাধাগোবিন্দ নিজের আত্মজীবনী "দারোগার দীর্ঘশ্বাস" লিখছেন। হারাধনবাবু প্রতিদিন একটা করে জিনিষ হারাচ্ছেন। হলধর ঘোষ নিত্যনতুন বিদঘুটে যন্ত্র আবিষ্কার করছেন। তার আবিষ্কৃত অটো-মিস্ত্রি, অটো-ইস্ত্রি, অটো-ঝি, ইন্ধনহীন-রন্ধন একটাও অবশ্য সাফল্যের মুখ দেখেনি। তার বাড়িতে প্রতিদিন সকালে গ্রামের বুড়োদের আড্ডা বসে। তার আবিষ্কার দেখার জন্য কেউ আসেনা। চা আর চিড়েভাঁজা পাওয়া যায় বলেই আসে। কদিন ধরেই নগেনবাবুর মন খারাপ। তিনি আড্ডায় থেকেও যেন নেই। কারও সাথে দুদিন ধরে কোনও কথা বলেনি। যেন মৌনব্রত পালন করছেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন মনের ভুলে বলে বসলেন " ৭৫ বছর পর ফিরে এল"। আর যায় কোথায়, সবাই চেপে ধরল কি হয়েছে বলার জন্য। বাধ্য হয়ে তিনি বললেন। আজ থেকে ৭৫ বছর আগে নগেনবাবুর বয়স যখন ১০, তাদের সংসারে ছিল টানাপোড়েন। তিনবেলা খাদ্য জুটতনা। একদিন এক সাধুবাবা তাদের বাড়িতে এসে তার বাবার সাথে বসে অনেকক্ষণ কথা বলেন। যাওয়ার সময় একটা প্রদীপ দিয়ে বলে যান, এই প্রদীপ তোমার ভাগ্য ফেরাবে। আমি ৭৫ বছর পর এটা ফেরত নিতে আসব। তারপর থেকে আস্তে আস্তে তাদের দিন ফিরতে লাগল। নগেনবাবু কখনও প্রদীপটা ধরেও দেখেননি। বাবার কথামত সিন্ধুকে রেখে দিয়েছিলেন। দুদিন আগে ছেলেবেলায় দেখা সেই সাধুবাবা হাজির। ৭৫ বছর পরও মনে হলো তার বয়স বাড়েনি। প্রদীপের খোজঁ করতে গিয়ে নগেনবাবু দেখেন সিন্ধুক খালি। চুরি গেছে প্রদীপ। একথা শুনে সাধুবাবা রেগে গেলেন। বলে গেলেন সাত দিনের মধ্যে প্রদীপের ব্যবস্থা না করলে নগেনবাবু ঝাড়ে নির্বংশ হয়ে যাবেন। বাড়ি থেকে বের করে দেয়াতে দানু পায়েসপুর এসে উঠেছে। দানু খুব লম্বা, রোগা আর ঢ্যাঙা। নগেনবাবুর মেয়ের বাড়িতে কাজ করে, বিনিময়ে মাথা গোজার ঠাই আর একটু খাদ্য পেয়েই খুশি। পাড়ার ফুটবল ক্লাবে প্লেয়ার শর্ট থাকায় একদিন দানুকে নামানো হয়। লম্বা দানু দৌড়াতে গিয়ে বারবার পড়ে যায়, ফের উঠে আবার দৌড়ায়। হেড করলে বল বারের উপর দিয়ে চলে যায়। ওর কাণ্ডকারখানায় সবাই হেসে খুন। তারপরও কিভাবে যেন দুটা গোল দিয়ে দেয় দানু। আন্তঃজেলা লিগের খেলাতেও হবিবপুরের বিপক্ষে পায়েসপুরের হয়ে খেলতে নামে দানু। সেদিনও পাঁচ গোল দিয়ে জিতিয়ে আনে পায়েসপুর কে। গ্রামের পালোয়ান বটেশ্বরের পেল্লায় শরীর। সারা শরীরে পেশী কিলবিল করে। লোকে খুব সম্মান করত আগে। কিন্তু দানু গ্রামে আসার পর থেকে তার দিকে কেউ ফিরেও তাকায়না। এদিকে, একদিন সেই সাধুবাবা বটেশ্বরকে প্রদীপের দৈত্য ভেবে ধরে নিয়ে যায়। তাকে বাঁচাতে রাধাগোবিন্দ দারোগা বের হলে, তাকেও আটকে রাখেন সাধুবাবা। গ্রামের সবথেকে লম্বা লোক বলে দানুকেও ধরে নিয়ে আটকে রাখে। বয়স হওয়াতে আসলে ঠিক ঠাহর করতে পারছেন না তিনি কোনটা আসল দৈত্য। নগেনবাবুর বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া প্রদীপ এমন একজনের হাতে পড়ে, যে দৈত্যের সাহায্যে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে চায়। তার কাছ থেকে প্রদীপ উদ্ধার করতে না পারলে নিস্তার নেই। কিন্তু বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে?

রিভিউস

আবশ্যিক তথ্যগুলো * দিয়ে চিহ্নিত করা। আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।