হাঁসুলী বাঁকের উপকথা

5.00 গড় রেটিং - 1 ভোট
বাড়তি নাম: Hansuli Banker Upakatha
বিষয়: উপন্যাস, চিরায়ত উপন্যাস
লেখক:
পৃষ্ঠাসমূহ: 307
ভাষা: বাংলা
ধরণ: পিডিএফ

‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’ তারাশঙ্করের প্রথম ধারার শেষ পর্বের মহাকাব্যিক উপন্যাস। এই উপন্যাসে তারাশঙ্কর ভূমি নির্ভর আভিজাত্য বোধে জারিত জীবন ব্যবস্থার মাঝে বিত্ত-মর্যাদা-সচেতন অর্থদৃপ্ত অহমিকার অনুষঙ্গ উপস্থাপন করেছেন। ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’র একটা অনুষঙ্গ তাঁর নিজের জীবন কাহিনীরই যেন প্রতিচ্ছবি। উচ্চকোটির জীবন আর নিম্নকোটির জীবনযাত্রার সংঘাত এই উপন্যাসে ব্যক্ত হয়েছে। ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’ উপন্যাসে তারাশঙ্কর কৌম সমাজের গোষ্ঠী জীবনকে বিষয়ভুক্ত করেছেন। উপন্যাসটিতে রয়েছে সমান্তরাল দুটি কাহিনী। বাঁশবাদি গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কোপাই নদীর বিখ্যাত হাঁসুলি বাঁকের কাহার সম্প্রদায়ের সুসংহত জীবনের পতন, কৃষি নির্ভর জীবনের পরিসমাপ্তি ও কাঁশবন ঘেরা উপকথার হাঁসুলি বাঁক বিরানভূমি পরিণত হওয়ার কাহিনী ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা। ’কাহার সম্প্রদায়ের উচ্ছেদ ও বুর্জোয়া ধনতান্ত্রিক সমাজের যন্ত্রকলে তাদের দাসে পরিণত হবার কাহিনী ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা।’

তারাশঙ্করের ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের অন্তর্দ্বন্দ্ব এই উপন্যাস লিখতে তাঁকে সাহায্য করেছিল বলে ভাবলে বেশি ভাবা হয় না। ১৯১৪ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে তারাশঙ্কর বয়ঃসন্ধিক্ষণ পেরিয়ে যৌবনে পদার্পণ করছেন সবেমাত্র। ওই সময় তারাশঙ্করের মনের উপর যুদ্ধের প্রভাব পড়েছিল। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন রাঢ় অঞ্চলের গ্রাম্য জীবনেও জীবন-জীবিকায় পরিবর্তনের সূচনা দেখা দিয়েছে। ওই সময় বাঙালিরা কয়লা খনির ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। অনেকেই লাভপুরের ক্ষয়িষ্ণু জমিদারির আওতা থেকে বের হয়ে কয়লাখনির ব্যবসায় নিজেদের নিয়োজিত করছেন। তাদের এলাকার একটা জমিদারও এ ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করে। ওই পরিবারে তারাশঙ্কর বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’য় রাঢ় অঞ্চলের গ্রাম্য জীবনের আর্থ-সামাজিক দ্বন্দ্ব সংঘাতের কাহিনীই তারাশঙ্কর তুলে ধরেছেন কাহিনী নির্ভর কাব্যিক গদ্যে। সত্যিই ভাল লাগার মত একটি উপন্যাস। পাঠক মিস করবেন না এমন একটি সুন্দর উপন্যাস পড়া থেকে আপনার ভাললাগার খোঁড়াক কিছুটা হলেও মিটবে এই উপন্যাসটি পড়ে।

রিভিউস

আবশ্যিক তথ্যগুলো * দিয়ে চিহ্নিত করা। আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।