পালামৌ

5.00 গড় রেটিং - 1 ভোট
বাড়তি নাম: Palamou
প্রকাশক: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
বিষয়: ভ্রমণ কাহিনী ও প্রবাস
লেখক:
পৃষ্ঠাসমূহ: 56
আইএসবিএন: 9841800004
ভাষা: বাংলা
ধরণ: পিডিএফ

'পালামৌ' বাংলাসাহিত্যের একটি সার্থক ভ্রমণকাহিনী।  ভ্রমণকাহিনী বলা হলেও রচনাটিতে লেখক ব্যক্তিগত জীবন উপলব্ধির আলোকে ভাষ্য রচনা করছেন ফলে দার্শনিকতা লক্ষণীয়।

রবীন্দ্রনাথ তাঁর ''সঞ্জীবচন্দ্র"(পালামৌ) একটি প্রবন্ধে এই বইটির উজ্জ্বল ও ব্যর্থ দুটি দিকই সমান সহানুভূতিতে বর্ণনা করছেনে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রবন্ধে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে বলেছেন:
"সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিভা পূর্বোক্ত শ্রেণীর। তাঁহার রচনা হইতে অনুভব করা যায় তাঁহার প্রতিভার অভাব ছিল না, কিন্তু সেই প্রতিভাকে তিনি প্রতিষ্ঠিত করিয়া যাইতে পারেন নাই। তাঁহার হাতের কাজ দেখিলে মনে হয়, তিনি যতটা কাজে দেখাইয়াছেন তাঁহার সাধ্য তদপেক্ষা অধিক ছিল"
এছাড়াও রবীন্দ্রনাথের রচিত প্রবন্ধে পালামৌ সম্পর্কিত বিষয়াবলী এই বইয়ের ভূমিকাতে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

পালামৌ ভ্রমণকাহিনীটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বৃদ্ধ বয়সে লেখা। তিঁনি এই গ্রন্থে প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনার পাশাপাশি অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে কোল জাতিদের জীবনদর্শন,ভাষা, কোল নারীদের বর্ণনা উল্লেখ্যযোগ্য। বইটি পাঠকালে সবচেয়ে মজার লেগেছে, কোলদের বিবাহপ্রথা। তাদের বিবাহকে একধরনের কন্যা-হরণ বলা চলে। কোলদের উৎসব সর্বাপেক্ষা বিবাহে। পালামৌ রচনায় লেখকের বিভিন্ন উপমায় রম্যের ব্যবহার, রসবোধ তৃপ্তি জোগায়। পরিশেষে বলা চলে, লেখকের বর্ণনা প্রতিভা যেকোনো পাঠকহৃদয়ে সাড়া জাগাবে।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উক্তি:

  • 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'
  • 'গল্প করা বৃদ্ধ বয়সের রোগ, কেহ শুনুন বা না-শুনুন, বৃদ্ধ গল্প করে'
  • 'নিত্যমুহূর্তে এক-একখানি নূতন পট আমাদের অন্তরে ফোটোগ্রাফ হইতেছে এবং তথায় তাহা থাকিয়া যাইতেছে।  আমাদের চতুঃপার্শ্বে যাহা কিছু আছে, যাহা কিছু আমরা ভালোবাসি, তাহা সমুদয় অবিকল সেই পটে থাকিতেছে"।

রিভিউস

আবশ্যিক তথ্যগুলো * দিয়ে চিহ্নিত করা। আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।