এত রক্ত কেন

4.00 গড় রেটিং - 1 ভোট
বাড়তি নাম: Eto Rakta Keno
প্রকাশক: আনন্দ পাবলিশার্স
বিষয়: উপন্যাস
লেখক:
পৃষ্ঠাসমূহ: 132
আইএসবিএন: 9788177561920
ভাষা: বাংলা
ধরণ: পিডিএফ

কৈলাস নগরে ভালো কলেজ থাকতেও, অজয় জেদ করেই আগরতলার মহারাজা স্থাপিত কলেজে ভর্তি হয়। বাবার সায় না থাকলেও অজয় এর মামার আদেশে তিনি বাধ্য হন।'অজয় দেববর্মা' ত্রিপুরা উপজাতি। আগরতলায় যাওয়ার প্রথম দিনেই অজয় হোস্টেলের বাঙালি ছেলেদের দ্বারা নির্যাতিত হয়। এটা মূলত ভারতীয় বাঙালি এবং ত্রিপুরার উপজাতিদের মধ্যকার বিভেদ এবং বৈষম্য থেকে সৃষ্ট।

১৯৪৯ সালে ত্রিপুরার রাজা 'বীর বিক্রমমানিক্য' এর মৃত্যুর পর ভাবী রাজা 'কীরাট বিক্রমমানিক্য' নাবালক ছিলেন। আর তাই ভারতবর্ষের সাথে ত্রিপুরার অন্তর্ভুক্তি রানী মেনে নিতে বাধ্য হয়। তবে এখন পর্যন্ত ত্রিপুরার উপজাতিরা এটা মেনে নিতে পারে না।আর তাই, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে সন্ত্রাসবাদ সীমা অতিক্রম করতে থাকে। ত্রিপুরা রাজ্যকে ভারত সরকারের থেকে বিচ্ছিন্ন ও স্বাধীন করতে, কয়েকটি জঙ্গিগোষ্ঠি সন্ত্রাসবাদের শুরু করে। আর তাদের অস্রশস্র এর নিদৃষ্ট জোগান এবং অর্থ না থাকায়, তারা তা রোজগার করতে সহজ পথ টাই অনুসরন করে। এর মাধ্যমে বাঙালি ও ত্রিপুরাবাসীদের মধ্যে বিভেদকে আরও জোরালো হয়ে উঠে। আর এই সন্ত্রাসিদের কবলে পড়েই অপহৃত হয়, সাংবাদিক 'বাসুদেবের' শ্যালক ডাক্তার 'সৌমিত্র'। এবং অপহৃত কারীরা ২৫ লাখ টাকা মৃত্যুপণ দাবী করে। তাকে অপহৃত করে টাইগার নামক এক জঙ্গিগোষ্ঠী। এত টাকা দেওয়া সৌমিক এর পরিবার এর পক্ষে সম্ভব ছিল না। কেন না, তার বাবা একজন সৎ পুলিশ অফিসার ছিলেন এবং সম্প্রতি তিনি অবসর নিয়েছেন।আর তাই সৌমিত্র কে উদ্ধার করতে দুঃসাহসী সাংবাদিক বাসুদেব বুদ্ধি ও কৌশলে একাই এগিয়ে যান। সে জানতে পারে টাইগারদের সাহায্য করছে বিডিআর ও বিএসএফ এর কিছু অসাধু কর্মকর্তা। এবং টাইগারদের সাথে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের কিছু স্বার্থন্বেষী মানুষ।

'এত রক্ত কেন' এটা মুলত পলিটিকাল থ্রিলার উপন্যাস। এই কাহিনীতে লেখক ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান জাতিগত বিভেদের তুলে এনেছেন। উপন্যাসের অনেক টা জায়গা জুড়ে অবস্থান করছে বাংলাদেশ ও তার মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধারা। যদিও লেখক ত্রিপুরার রাজনৈতিক চিত্রকে তুলে ধরেছেন তবুও ভারতে যে এই সমস্যাটি ক্রমেই বেড়ে চলছে তারই বহিপ্রকাশ দিয়েছেন এবং সমস্যাটার সমাধান করতে গেলে যে সেটা আরো গুলিয়ে যাচ্ছে তারও আবাস দিয়েছেন, উপন্যাসের শেষ পৃষ্টা গুলোই।থ্রিলার প্রেমীদের জন্য অসম্ভব ভালো একটি বই। শুরু করলে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখানে ডুবে থাকতে হবে। ভাল না লাগার প্রশ্নই আসে না। পড়ার মাঝে মনে হবে বাসুদেব এর সাথে আপনিও চলছেন রোমাঞ্চ আর ভীতিকর অবস্থার মধ্য দিয়ে।যারা পড়েন নি তাদের জন্য আমন্ত্রন ভয়াবহ লোমোর্ষক এই উপন্যাসটি পড়ার জন্য।আমার মনে হয়ে আমার মতই আনন্দ ও পরিতৃপ্তি অনুভূতি হবে, একটা অসাধারণ থ্রিলার পড়ার বদৌলতে।

রিভিউস

আবশ্যিক তথ্যগুলো * দিয়ে চিহ্নিত করা। আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।