উত্তরাধিকার

5.00 গড় রেটিং - 1 ভোট
বাড়তি নাম: Uttaradhikar
সিরিজ: অনিমেষ সিরিজ
প্রকাশক: মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স
বিষয়: উপন্যাস
লেখক:
পৃষ্ঠাসমূহ: 279
আইএসবিএন: 8172930011
ভাষা: বাংলা
ধরণ: পিডিএফ

এই উপন্যাসের কাহিনী লেখা অনিমেষকে নিয়ে। যার ডাকনাম অনি। অনিমেষের ছোটবেলা কাটে স্বর্গছেড়া চা বাগানে। স্বর্গছেড়া চা বাগানের বড় বাবু অনিমেষের দাদু সরিৎশেখর। স্বর্গছেড়ার এই চা বাগান সরিৎশেখর নিজ হাতে তৈরী করে দিয়েছেন।

স্বর্গছেড়া! নামটার মাঝেই কেমন যেন একটা স্বর্গ স্বর্গ ভাব। আসলেই স্বর্গের মতো সুন্দর এই জায়গা। অনিমেষদের বাড়ির পাশেই অাঙরভাসা নদী, তার পাশেই ভুটানের পাহাড়, নদীর পানি এতোটাই স্বচ্ছ যে পানির নিচের হলদে পাথর পর্যন্ত দেখা যায়। সেই পাথরের নিচে আছে লালচে চিংড়ি মাছ।

এই এতো সুন্দর জায়গা ছেড়ে ছোট্ট অনিকে চলে যেতে হবে দাদুর সাথে। কারণ আজ দাদুর রিটায়ারমেন্ট। দাদু তার চাকরি জীবনের পয়তাল্লিশ বছরের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে জলপাইগুড়িতে একটা বাড়ি তৈরী করেছেন। ছোট ছেলে প্রিয়তোষ আর বড় মেয়ে হেমলতা মানে অনির পিসিমা আর অনিকে নিয়ে থাকবেন সেখানে।

স্বর্গছেড়ায় পড়াশোনার পরিবেশ খুব খারাপ। তাই দাদু আর অনির বাবা মহিতোষ ঠিক করেছেন অনি দাদুর সাথে জলপাইগুড়িতে গিয়ে থাকবে। ওখানের ভালো স্কুলে পড়াশোনা করবে। কিন্তু অনি একটা জিনিস কিছুতেই বুঝতে পারছে না, এতো সুন্দর জায়গা ছেড়ে কি করে থাকবে? তার থেকে বড় কথা মা ও যে তার সাথে যাচ্ছে না! কিন্তু দাদুর কথায় এ বাড়িতে শেষ কথা। অনিকে জলপাইগুড়ি যেতেই হবে, কোন ছাড়াছাড়ি নেই। অনি বাড়ির পিছনের বাগান থেকে একমুঠো মাটি রুমালে করে বেধেঁ নিয়ে যাবে জলপাইগুড়িতে। যেন সবসময় মনে হয় সে স্বর্গছেড়ায়ই আছে।

দাদু, পিসি আর ছোট কাকার সাথে জলপাইগুড়ি আসে অনিমেষ। এখানকার এক স্কুলে ভর্তি হয়। নতুন বাড়িতে গৃহপ্রবেশের দিন স্বর্গছেড়া থেকে মা, বাবা আসেন। অনি ভীষণ খুশি মাকে কাছে পেয়ে। কিন্তু সেই খুশি খুব বেশি সময় থাকেনি। কারণ গৃহপ্রবেশের দিন রাতেই ঘটে যায় অনির জীবনের চরম দুঃখজনক ঘটনা। অনিমেষের মা মাধুরী মারা যায়।

সেই রাতে তিস্তা নদীতে বান ডাকে। চারিধার পানিতে ভেসে যায়। সকালে পানি নেমে যাওয়ার পর ছোট্ট অনি সবার সাথে শ্মশানে যায়। এক রাতেই ছোট্ট অনি যেন হটাৎই খুব বড় হয়ে যায়।

সেই অনি একসময় বড় হয়। এর মাঝে হাজারো ঘটনার সম্মুখীন হয়। কিছু ঘটনায় চরম আঘাত পেয়েছে, কখনো পেয়েছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। মায়ের মৃত্যুর পর বাবা আবার বিয়ে করে। প্রথমদিকে মানতে না পারলেও নতুন মা একসময় খুব ভালো বন্ধু হয়ে যায় অনির।

সবকিছু মেনে নিয়েই সেই ছোট্ট অনি শৈশব, কৈশোর পেড়িয়ে যৌবনে পা রাখে। যত যাই হোক, জীবনের প্রতিটা সময় দাদু সরিৎশেখর ছায়ার মতো পাশে ছিলেন। থমকে যেতে দেননি অনির জীবন চলার গতি। কি হয় শেষমেশ সেই অনির জীবনে?

রিভিউস

আবশ্যিক তথ্যগুলো * দিয়ে চিহ্নিত করা। আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।